সৌদি-ইউএই উত্তেজনার মধ্যেও উত্তোলন নীতি অপরিবর্তিত রাখতে পারে ওপেক প্লাস

ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়ছে।

ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়ছে। এর মধ্যেও ওপেক প্লাস জ্বালানি তেল উত্তোলন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনছে না। চলতি মাসের প্রথম বৈঠকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা স্থিতিশীল রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন জোটসংশ্লিষ্ট তিন প্রতিনিধি।

সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কুয়েত, ইরাক, আলজেরিয়া ও ওমান এ আট দেশ গত বছরের এপ্রিল-ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে দৈনিক প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ায়, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশের সমান। তবে নভেম্বরের বৈঠকে জোটটি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দেয় গত মাসে। সে সময় আমিরাত-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে কিছু এলাকা দখল করে নেয়। তবে এ বিরোধ চলতি মাসের প্রথম বৈঠকের আলোচনায় প্রভাব ফেলবে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত ওপেক প্লাসের কোনো সূত্রই এখনো দেয়নি। এর আগেও ইরান-ইরাক যুদ্ধের মতো গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের সময় ওপেক বাজার ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জোটের ঐক্য ধরে রেখেছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে আরব আমিরাতের সেনা প্রত্যাহারের এক আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমিরাত তাদের অবশিষ্ট বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এটিকে উপসাগরীয় দুই প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই দিনে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে সামরিক অবস্থান পুনর্দখলের ‘শান্তিপূর্ণ অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানায়, ঘোষণার পর থেকে সাতটি সৌদি বিমান হামলা হয়েছে।

২০২০ সালের পর জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় বার্ষিক দরপতন হয়েছে ২০২৫ সালে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের প্রথম লেনদেনেও নিম্নমুখী ছিল পণ্যটির দাম। ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনিজুয়েলা থেকে রফতানি বিঘ্নের আশঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা এ সময় পণ্যটির দাম কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ১০ সেন্ট কমে ৬০ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমেছে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম নেমেছে ব্যারেলপ্রতি ৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্ট কম।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে আলোচনা চললেও সংঘর্ষ থামেনি। নতুন বছরের প্রথম দিনেও দেশ দুটি একে অন্যের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে। এরই মধ্যে কিয়েভ রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় দেশটিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতির প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়তে পারে। এছাড়া ইরানে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করবে। কয়েক দিনের এ অস্থিতিশীলতাকে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এসব ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি জ্বালানি তেলের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন।

আরও